রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫

গ্রেপ্তার ৫ ডাকাত

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে খাবারের সাথে কৌশলে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করার পর বাড়ীর একতলা বিল্ডিংয়ের বারান্দার লোহার গ্রীল কেটে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, ২০ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও ৫ হাজার টাকার কসমেটিকস্ পণ্যসহ প্রায় ২১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় ৫ ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বিপিএম, পিপিএম বার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য সিঙ্গাইর উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামের মৃত সাদেক খানের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস(৫০), মো. পর্বত খানের ছেলে মো. আরমান(৩৫)। তাদের ৩ দিনের পুলিশি রিমান্ডে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিঙ্গাইর থানাধীন জয়মন্টপ, জামির্ত্তা ও চান্দহর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য জয়মন্টপ ইউনিয়নের ছয়ানী গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মিজান(২৫), চান্দহর ইউনিয়নের চর মাধবপুর গ্রামের মো. ফারুকের ছেলে সোহাগ(২৪) ও মৃত হামিদ আলীর ছেলে মো. মনির হোসেন(৩৭) কে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির মধ্য ১টি বড় রামদা, ১টি লোহার নাক চিরানী (তালা ও গ্রীল ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত), ১টি  বড় সেলাই রেঞ্জ, ১টি ধারালো চাকু, ১টি প্লাস, ১টি টর্চ লাইট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্বর্ণকার আসামী মো. মনির হোসেনের হেফাজত হতে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকারের মধ্য হতে ৫ ভরি ৩ আনা ৫ রত্তি স্বর্ণালংকার ও লুন্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং অপর ডাকাত মো. মিজানের হেফাজত হতে লুন্ঠিত মাল বিক্রয়ের ভাগের নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, ডাকাতদলের যোগাসাজসে খাবারের সাথে চেতনানশক মিশিয়ে খাইয়ে অসুস্থ করার পর ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২ টার দিকে সিঙ্গাইর থানাধীন জয়মন্টপ ইউনিয়নের কমলনগর সাকিনস্থ কমল সন্যাসীর ছেলে প্রবাসী উজ্জ্বল সন্যাসীর(৩৭) বাড়ীর একতলা বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পার্শ্বের বারান্দার লোহার গ্রীল কেটে বিল্ডিংয়ের ভিতরে প্রবেশ করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটায়। উক্ত ঘটনায় প্রবাসী উজ্জল সন্যাসীর স্ত্রী পূজা সরকার(২৩) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে অজ্ঞাতনামা ৪ জন দুস্কৃতিরকারীর বিরুদ্ধে সিঙ্গাইর থানার মামলা নং-৩৮/১১০, তাং-২৯/০৩/২০২৪ইং, ধারা- ৩২৮/ ৪৫৭/ ৩৯৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়। পরে সিঙ্গাইর থানা পুলিশের চৌকস অভিযানে ডাকাতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, ৪ এপ্রিল রিমান্ড প্রাপ্ত ২ ডাকাতসহ গ্রেফতারকৃত ৫ জন ডাকতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ডাকাত আব্দুল কুদ্দুস, মো. মিজান, সোহাগ ও মো. মনির হোসেন-গণ স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবে বলে জানিয়েছে। ডাকাত আব্দুল কুদ্দুস এর বিরুদ্ধে ১৭টি, মো. আরমান এর বিরুদ্ধে ৮টি, মো. মিজান এর বিরুদ্ধে ৩টি, সোহাগ এর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। এছাড়া অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানা গেছে।
ট্যাগ :

ঝিকরগাছায় আলাল দিনে কৃষক, রাত নামলেই আ. লীগ কর্মীদের জড়ো করে গোপন বৈঠক, এলাকায় আতঙ্ক

মানিকগঞ্জে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে খাবারের সাথে কৌশলে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করার পর বাড়ীর একতলা বিল্ডিংয়ের বারান্দার লোহার গ্রীল কেটে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, ২০ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও ৫ হাজার টাকার কসমেটিকস্ পণ্যসহ প্রায় ২১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় ৫ ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বিপিএম, পিপিএম বার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য সিঙ্গাইর উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামের মৃত সাদেক খানের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস(৫০), মো. পর্বত খানের ছেলে মো. আরমান(৩৫)। তাদের ৩ দিনের পুলিশি রিমান্ডে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিঙ্গাইর থানাধীন জয়মন্টপ, জামির্ত্তা ও চান্দহর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য জয়মন্টপ ইউনিয়নের ছয়ানী গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মিজান(২৫), চান্দহর ইউনিয়নের চর মাধবপুর গ্রামের মো. ফারুকের ছেলে সোহাগ(২৪) ও মৃত হামিদ আলীর ছেলে মো. মনির হোসেন(৩৭) কে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির মধ্য ১টি বড় রামদা, ১টি লোহার নাক চিরানী (তালা ও গ্রীল ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত), ১টি  বড় সেলাই রেঞ্জ, ১টি ধারালো চাকু, ১টি প্লাস, ১টি টর্চ লাইট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্বর্ণকার আসামী মো. মনির হোসেনের হেফাজত হতে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকারের মধ্য হতে ৫ ভরি ৩ আনা ৫ রত্তি স্বর্ণালংকার ও লুন্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং অপর ডাকাত মো. মিজানের হেফাজত হতে লুন্ঠিত মাল বিক্রয়ের ভাগের নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, ডাকাতদলের যোগাসাজসে খাবারের সাথে চেতনানশক মিশিয়ে খাইয়ে অসুস্থ করার পর ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২ টার দিকে সিঙ্গাইর থানাধীন জয়মন্টপ ইউনিয়নের কমলনগর সাকিনস্থ কমল সন্যাসীর ছেলে প্রবাসী উজ্জ্বল সন্যাসীর(৩৭) বাড়ীর একতলা বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পার্শ্বের বারান্দার লোহার গ্রীল কেটে বিল্ডিংয়ের ভিতরে প্রবেশ করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটায়। উক্ত ঘটনায় প্রবাসী উজ্জল সন্যাসীর স্ত্রী পূজা সরকার(২৩) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে অজ্ঞাতনামা ৪ জন দুস্কৃতিরকারীর বিরুদ্ধে সিঙ্গাইর থানার মামলা নং-৩৮/১১০, তাং-২৯/০৩/২০২৪ইং, ধারা- ৩২৮/ ৪৫৭/ ৩৯৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়। পরে সিঙ্গাইর থানা পুলিশের চৌকস অভিযানে ডাকাতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, ৪ এপ্রিল রিমান্ড প্রাপ্ত ২ ডাকাতসহ গ্রেফতারকৃত ৫ জন ডাকতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ডাকাত আব্দুল কুদ্দুস, মো. মিজান, সোহাগ ও মো. মনির হোসেন-গণ স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবে বলে জানিয়েছে। ডাকাত আব্দুল কুদ্দুস এর বিরুদ্ধে ১৭টি, মো. আরমান এর বিরুদ্ধে ৮টি, মো. মিজান এর বিরুদ্ধে ৩টি, সোহাগ এর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। এছাড়া অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানা গেছে।