প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৫, ২০২৬, ৪:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৪, ২০২৬, ৯:৩৫ পি.এম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী অমিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপে সরকার দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া, চকরিয়া উপজেলার উত্তর বরইতলী, পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসা, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্ব মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং টইটং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার শুরু থেকেই জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি এলাকা ও পরিবারের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, কৃষিজমি, মৎস্য খামার ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ কমাতে জুলাই মাসের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার জন্য এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে।
পাহাড় ধসে প্রাণহানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুধু এককালীন আর্থিক সহায়তা দিয়েই সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে না। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি কমাতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিভিন্ন উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি সন্ধ্যায় বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন।
Copyright © 2023 সাম্প্রতিক বাংলাদেশ © All Rights Reserved.