সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অচিরেই রংপুর বিভাগে হবে নতুন কার্যালয়/

জেলা পর্যায়ে অফিস না থাকায় ধ্বংসের মুখে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৮৬১ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া নামে এ অধিদপ্তরের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে পুরার্কীতি আইন মোতাবেক গঠিত হয় প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর, যা পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নামে নাম করণ করা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ঢাকায় বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়। ১৯৮৩ সালে বিভাগীয় পুর্ণবিন্যাসের মাধ্যমে ঢাকা প্রধান কার্যালয়সহ ৪ টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন ময়মনসিহ বিভাগ, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন বরিশাল বিভাগ, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন রংপুর বিভাগ এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন সিলেট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কোন কার্যালয় না থাকায় সব প্রত্নস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তবে রংপুর বিভাগে দ্রুত বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন করা হবে।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় ৫৩৬ টি সংরক্ষিত পুরার্কীতি রয়েছে। তন্মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, শালবন বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, কান্তজীর মন্দির, ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, ভাসু বিহার, লালবাগদূর্গ, বারো বাজার প্রত্ন স্থান , রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ও কাছারি বাড়ি অন্যতম। প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরের আওতায় ৩১ টি জাদুঘর ও প্রত্নস্থল প্রবেশ মূল্যে বিনিময়ে পরিদর্শনের জন্য চালু রয়েছে। এছাড়াও দেশের আনাচেকানাচে সংরক্ষণ যোগ্য প্রায় ২০০০ টির মতো সংরক্ষণ যোগ্য পুরার্কীতি রয়েছে। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরেও হয়নি ৬৪ জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক কার্যালয়। যার দরুন পুরার্কীতি গুলো ব্যাপক অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরের অনেক পরে প্রতিষ্ঠা হওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন শিল্পকলা একাডেমী, পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, দুদক সহ একাধিক দপ্তর জেলা এমনকি উপজেলা কার্যালয়ে পেয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরে বর্তমানে কোন নিয়োগবিধি নেই। অধিদপ্তরে রয়েছে প্রবল বাজেট ও লোকবল সংকট রয়েছে। অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত অধিকাংশ জাদুঘর সাইট অফিসে আর্থিক বরাদ্ধ নেই। বিগত বছর গুলোতে ৩০ টির মতো প্রত্নস্থান রক্ষণাবেক্ষণের বা দেখভালের অভাবে গেজেটেড পুরার্কীতি থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট গুলি প্রয়োজনীয় সংস্কার লোকবল সংকট ও বাজেট অপ্রতুলতা, প্রত্নতাত্ত্বিক অফিস না থাকার কারণে ধ্বংসের মুখে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক যে খনন ও জরিপ করা হয় তা অত্যন্ত সংকীর্ন হালে রয়েছে, যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সংস্কৃতি বিকাশের অত্যন্ত অন্তরায়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ে ৮টি পরিচালকের পদ সৃষ্টি, বৃহত্তর জেলাগুলো যেমন দিনাজপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোরে আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক কার্যালয় চালু, অন্যান্য ছোট জেলা গুলোতে জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক/সহকারী পরিচালকের কার্যালয় চালু, পাহাড়পুর, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও লালবাগে উপপরিচালকের কার্যালয় স্থাপন করা হলে প্রত্নস্থলগুলো সুষ্ঠভাবে সংরক্ষণ করা যাবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক(প্রশাসন) সেখ কামাল হোসেন বলেন, রংপুর বিভাগে দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু হবে। আমাদের সব জেলায় সেভাবে প্রত্নস্থল নেই। তাই আপাতত যে পর্যায়ে কার্যালয় করার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগে আমাদের খনন হয়েছে কম। আগামী মৌসুমে সেখানে খনন কাজ শুরু হবে। ফলে ওই বিভাগেও কিছু নতুন প্রত্নস্থল আবিস্কৃত হবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোরের শার্শায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মাহফিল

অচিরেই রংপুর বিভাগে হবে নতুন কার্যালয়/

জেলা পর্যায়ে অফিস না থাকায় ধ্বংসের মুখে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৮৬১ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া নামে এ অধিদপ্তরের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে পুরার্কীতি আইন মোতাবেক গঠিত হয় প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর, যা পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নামে নাম করণ করা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ঢাকায় বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়। ১৯৮৩ সালে বিভাগীয় পুর্ণবিন্যাসের মাধ্যমে ঢাকা প্রধান কার্যালয়সহ ৪ টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন ময়মনসিহ বিভাগ, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন বরিশাল বিভাগ, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন রংপুর বিভাগ এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন সিলেট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কোন কার্যালয় না থাকায় সব প্রত্নস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তবে রংপুর বিভাগে দ্রুত বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন করা হবে।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় ৫৩৬ টি সংরক্ষিত পুরার্কীতি রয়েছে। তন্মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, শালবন বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, কান্তজীর মন্দির, ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, ভাসু বিহার, লালবাগদূর্গ, বারো বাজার প্রত্ন স্থান , রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ও কাছারি বাড়ি অন্যতম। প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরের আওতায় ৩১ টি জাদুঘর ও প্রত্নস্থল প্রবেশ মূল্যে বিনিময়ে পরিদর্শনের জন্য চালু রয়েছে। এছাড়াও দেশের আনাচেকানাচে সংরক্ষণ যোগ্য প্রায় ২০০০ টির মতো সংরক্ষণ যোগ্য পুরার্কীতি রয়েছে। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরেও হয়নি ৬৪ জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক কার্যালয়। যার দরুন পুরার্কীতি গুলো ব্যাপক অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরের অনেক পরে প্রতিষ্ঠা হওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন শিল্পকলা একাডেমী, পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, দুদক সহ একাধিক দপ্তর জেলা এমনকি উপজেলা কার্যালয়ে পেয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরে বর্তমানে কোন নিয়োগবিধি নেই। অধিদপ্তরে রয়েছে প্রবল বাজেট ও লোকবল সংকট রয়েছে। অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত অধিকাংশ জাদুঘর সাইট অফিসে আর্থিক বরাদ্ধ নেই। বিগত বছর গুলোতে ৩০ টির মতো প্রত্নস্থান রক্ষণাবেক্ষণের বা দেখভালের অভাবে গেজেটেড পুরার্কীতি থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট গুলি প্রয়োজনীয় সংস্কার লোকবল সংকট ও বাজেট অপ্রতুলতা, প্রত্নতাত্ত্বিক অফিস না থাকার কারণে ধ্বংসের মুখে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক যে খনন ও জরিপ করা হয় তা অত্যন্ত সংকীর্ন হালে রয়েছে, যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সংস্কৃতি বিকাশের অত্যন্ত অন্তরায়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ে ৮টি পরিচালকের পদ সৃষ্টি, বৃহত্তর জেলাগুলো যেমন দিনাজপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোরে আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক কার্যালয় চালু, অন্যান্য ছোট জেলা গুলোতে জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক/সহকারী পরিচালকের কার্যালয় চালু, পাহাড়পুর, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও লালবাগে উপপরিচালকের কার্যালয় স্থাপন করা হলে প্রত্নস্থলগুলো সুষ্ঠভাবে সংরক্ষণ করা যাবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক(প্রশাসন) সেখ কামাল হোসেন বলেন, রংপুর বিভাগে দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু হবে। আমাদের সব জেলায় সেভাবে প্রত্নস্থল নেই। তাই আপাতত যে পর্যায়ে কার্যালয় করার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগে আমাদের খনন হয়েছে কম। আগামী মৌসুমে সেখানে খনন কাজ শুরু হবে। ফলে ওই বিভাগেও কিছু নতুন প্রত্নস্থল আবিস্কৃত হবে বলে আশা করা যায়।