
জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও।। দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মরুভূমির ফল "সাম্মাম" চাষ করে মুন্নাফ আলী মন্ডল নামের এক চাষি আর্থিকভাবে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। উৎপাদনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার সাম্মাম বিক্রি করেছেন, আরো প্রায় দুই তিন লক্ষ টাকার সাম্মাম বিক্রি হবে বলেও আশা করছেন তিনি। দেশের মাটিতে এ ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন । কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলে অনেক কৃষক মরুর এই ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।
জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক মোন্নাফ আলী মণ্ডল ভাতারমারী ফার্মে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ৭৫ শতক জমি লিজ নিয়ে এ ফলের চাষ করেছেন। ফলটি দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো হলেও,ফলটিকে ‘রকমেলন’ নামেও চেনেন অনেকেই।
নতুন জাতের এ ফল উৎপাদনের খবর পেয়ে ওই কৃষকের ক্ষেতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের কৃষকসহ দুরদুরান্ত থেকে আসা দর্শণার্থীরা। অনেকেই এ ফল খেয়ে দেখছেন, কেউবা পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তরমুজ চাষের মতো করেই সারিবদ্ধভাবে তৈরি করা হয়েছে মাটির ঢিবি। দূর থেকে যে কেউ দেখলে মনে করবেন এটা তরমুজ ক্ষেত। কিন্তু কাছে যেতেই বোঝা গেল এটি তরমুজ নয় অন্যকিছু।
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মাটির উপরে মালচিং বিছিয়ে সেখানে ‘সাম্মামের’ চারা রোপণ করা হয়েছে। আর ছিদ্র করা মালচিং এর ফাঁকা দিয়ে গজিয়ে উঠেছে ‘সাম্মামের’ গাছ।
মোন্নাফ আলী মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ করে আসছি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে মরুভূমির ফল ‘সাম্মাম’ চাষ দেখে উৎসাহী হয়। চুয়াডাঙ্গার এক পরিচিত কৃষকের কাছ থেকে ‘সাম্মাম’ ফলের বীজ সংগ্রহ করি। সেসব বীজ থেকে বাড়িতে চারা তৈরি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিকভাবে চারাগুলো রোপন করি ।
তরমুজের মতো করেই মাটিতে এই ফলের চাষ করা যায়। জমিতে রোপণের দেড় মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয় ‘সাম্মাম’।
তিনি আরও জানান, বীজ, চারা তৈরি, জমি চাষ, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা খচর হয়েছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফলটি বাজারজাত শুরু হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার ‘সাম্মাম’ ফল বিক্রি করেছি। খেতে যে পরিমাণ ফল রয়েছে, তাতে আরও দুই লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। ফলটি সর্বনিম্ন ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ফল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হয়। আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা দরে। কম সময়ে এ ফলের চাষ খুবই লাভজনক বলে জানান তিনি।

মোন্নাফ আলীর ‘সাম্মামের’ ক্ষেত দেখতে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে আসা এন্থনি ডেভিড নীল বলেন, ইউটিউবে মরুভূমির ফল ‘সাম্মামের’ অনেক ভিডিও দেখেছি।ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে ফলটি চাষাবাদ হবে কখনও কল্পনাও করতে পারিনি । তাই পরিবার সহ দেখতে এসেছি, অনেক ভালো লাগলো। ফলটি খেতেও অনেক সুস্বাদু ও মজাদার। এসময় পরিবারের জন্য কিছু ফল ক্রয় করেন তিনি।
নেকমরদ থেকে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, টিভিতে দেখছিলাম সাম্মাম ফল কি।যখন শুনেছি ঠাকুরগাঁওয়ে এই ফল চাষ হয়েছে তখনই ছুটে এসেছি। আসলে ফলটি ক্ষেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান,সাম্মাম ফল এর পুষ্টিগুণ বেশি। কৃষকরা এই ফলটির চাষাবাদ সম্প্রসারণ করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের আবহাওয়া "সাম্মাম" চাষে উপযোগী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের এই বিষয়ে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বাংলা-ডট